| বঙ্গাব্দ

২০২৬ নির্বাচন: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও মিত্রদের ‘জাতীয় সরকার’ কার্ড |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-01-2026 ইং
  • 1624567 বার পঠিত
২০২৬ নির্বাচন: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও মিত্রদের ‘জাতীয় সরকার’ কার্ড |
ছবির ক্যাপশন: মিত্রদের ‘জাতীয় সরকার’ কার্ড |

বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে বিএনপি জোট: মিত্রদের অস্বস্তি কাটাতে ‘জাতীয় সরকার’ ও ‘উচ্চকক্ষ’ কার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের ৫৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নতুন বাঁক নিতে যাচ্ছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—সব প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে এক নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশ। তবে নির্বাচনী রণকৌশলে আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মাঝে বড় ধরনের অস্বস্তি ও চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া ১৬টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় জোটের ঐক্যে ফাটল ধরার উপক্রম হয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীর কাঁটা ও মিত্রদের সুর

নির্বাচনী ময়দান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিএনপি জোটের আসন সমঝোতায় মিত্রদের জন্য মাত্র ১৬টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়লেও অনেকে নিজ দলীয় প্রতীকে লড়ছেন। কিন্তু বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের ‘স্বতন্ত্র’ বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অবস্থান।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এ বিষয়ে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন:

“আমরা দু-একটি আসনের জন্য রাজনীতি করিনি। তবে আমার আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে যাওয়াটা বিব্রতকর। তাকে প্রত্যাহার করার দায়িত্ব ছিল বিএনপিরই।”

একই সুরে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তবে তারা জাতীয় পুনর্গঠনের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিএনপির ‘সুখবর’: জাতীয় সরকার ও উচ্চকক্ষ

মিত্রদের এই ক্ষোভ ও অস্বস্তি কাটাতে বিএনপি এখন ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ এবং ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ গঠনের প্রতিশ্রুতি সামনে আনছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, যারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন না বা যাদের আসন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের জাতীয় সরকারে মূল্যায়ন করা হবে।

বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখায় উল্লেখ করা হয়েছে:

  • উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা: বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

  • জাতীয় সরকার: ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠন করা হবে।

বিজেপি মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে তাকে একটি ‘সম্মানজনক জায়গায়’ মূল্যায়ন করা হবে।

নির্বাচনী মাঠের সর্বশেষ চিত্র

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে পাড়া-মহল্লার অলিগলি নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপির অনেক আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-১ আসনে বিদ্রোহীর সমর্থকদের হামলায় এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষণ

১৯০০ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থানে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র মেরামতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে চায়। বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করে মিত্রদের আস্থা অর্জন করা। মিত্ররা এখন কেবল ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে নয়, বরং নির্বাচন পরবর্তী ‘জাতীয় সরকারে’ নিজেদের স্থানের দিকে তাকিয়ে আছেন।


সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, যুগান্তর রাজনৈতিক ডেস্ক, প্রথম আলো জেলা সংবাদ ও এনসিপি প্রেস উইং।

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency